ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি
বাসা থেকে বের হয় প্রায় এক কিলোমিটার পথ দূরের কর্মস্থলে আসছিলেন হোটেল শ্রমিক জালাল মিয়া (২০)। তবে মুখে মাস্ক ছিলো না। চলমান কঠোর লকডাউনে পড়তে হয় বাস্তবায়নকারী সংশ্লিষ্টদের সামনে। পরে ভিন্ন এক ‘জরিমানার’ মুখোমুখি হন তিনি।
সরাসরি কোনো শাস্তি না দিয়ে কিংবা কোনো জরিমানা করে মাস্ক কিনে তাকে তাৎক্ষণিকভাবে বিলি করতে নির্দেশ করা হয়। নির্দেশনা অনুযায়ী জালাল মিয়া সেটি পালনও করেন। উপস্থিত লোকজন বিষয়টিকে ভালো ‘উদ্যোগ’ হিসেবে উল্লেখ করে প্রশংসা করেন।
ঘটনাটি ব্রাহ্মণবাড়িয়ার। শনিবার দুপুরে প্রেস ক্লাবের সামনে এ ঘটনা ঘটে। জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট প্রশান্ত বৈদ্য ব্যতিক্রম এ আদেশ দেন। আদেশ পেয়ে নিজে একটি মাস্ক পেয়ে দরিদ্রদের মাঝে তিনি মাস্ক বিতরণ করেন।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, কুমারশীল মোড়ের রাধুনী হোটেল অ্যান্ড রেস্টুরেন্টে শ্রমিকের কাজ করেন জালাল মিয়া। তার বাড়ি ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর উপজেলার মাছিহাতা ইউনিয়নের চান্দপুর গ্রামে। পৌর এলাকার কাজীপাড়ায় তিনি ভাড়া থাকেন। সেখান থেকে কর্মস্থল কুমারশীল মোড়ে আসার পথে তিনি লকডাউন বাস্তবায়নকারীদের সামনে পড়েন। এ সময় তার মুখে মাস্ক না থাকায় একবক্স কিনে সেটি বিলি করতে নির্দেশ দেওয়া হয়।
জালাল মিয়া জানান, বিষয়টি তিনি বেশ উপভোগ করেছেন। মাস্ক ছাড়া বের হওয়ায় তাকে সরাসরি জরিমানা না করে মাস্ক কিনে সেটা বিলি করতে বলা হয়। তিনি প্রেস ক্লাবের সামনে দাঁড়িয়ে দরিদ্র মানুষের মাঝে মাস্ক বিতরণ করেন।
নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট প্রশান্ত বৈদ্য কালের কণ্ঠকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, ওই যুবক মাস্ক ছাড়া রাস্তায় চলাচল করছিলেন। তাকে জরিমানা না করে একবক্স মাস্ক কিনে বিতরণ করতে বলা হয়। পাশাপাশি তাকে সতর্ক করে দেওয়া হয়েছে।
Leave a Reply